১৬ ফুট নিচ থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ম’রদেহ উদ্ধার

১৬ ফুট নিচ থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ম’রদেহ উদ্ধার

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদী খাঁন এলাকায় নিখোঁজ হওয়া অনুপ বাউল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, পিবিআই ঢাকা জেলা।

জানা যায়, রিপন মন্ডলসহ চারজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউলকে হত্যা করে ভেকু দিয়ে মরদেহ বালির নিচে পুঁতে রাখে। এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে গতকাল বুধবার রাতে রিপন মন্ডল, পিযুষ করাতি,

নয়ন মন্ডল ও দিলীপ চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর রিপনের দেখানো জায়গাতে খনন করে অনুপ বাউলের পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অনুপ বাউল মুন্সিগঞ্জের সিরাজদী খাঁন এলাকায় তার শ্বশুর বাড়ি থেকে মাদারীপুর যাওয়ার কথা বলে গত ৪ জানুয়ারি রাতে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।

খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার ছোট ভাই বিপ্লব বাউল ৫ জানুয়ারি থানায় একটি জিডি করেন। পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা বিষয়টির তদন্ত করতে গিয়ে বিপ্লব বাউলকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায়

একটি অপহরণ মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেয়। সে অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। থানা পুলিশ কর্তৃক প্রায় ৩ মাস তদন্ত হওয়ার পর রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে গত ২১ এপ্রিল পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার পায়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই মো. সালে ইমরানের ওপর। তিনি প্রথমে রিপন এবং ড্রামে করে মরদেহ বহনকারী অটোচালক অধিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহভাজন হিসাবে রিপনকে চিহ্নিত করেন।

তারপর অনেকটা নিশ্চিত হয়েই রিপন, পিযুষ, নয়ন ও দিলীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল ১ জুন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) বোয়ালখালী সিরাজদী খাঁন এলাকায় ১৬ ফিট গভীর বালির নিচ থেকে অনুপ বাউলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, নিহত অনুপ বাউলের স্বর্ণ ব্যবসার পার্টনার নয়ন মন্ডল। তাদের দুজনের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। সেটাকে কেন্দ্র করে নয়ন মন্ডল স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউলকে খুনের পরিকল্পনা করে। নয়ন তার চাচাতো ভাই রিপন, পিযুষ ও দিলীপের সাহায্য নিয়ে অনুপকে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি নয়ন মন্ডল অনুপ বাউলকে পাওনা টাকা দেওয়া এবং মাদারীপুরে স্বর্ণের অর্ডার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জয়েনপুরে ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে রিপনের গ্যারেজে আগে থেকে অবস্থান করছিল রিপন, পিযুষ ও দিলীপ। পাওনা টাকা নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ৪ জন মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে অনুপকে। প্রথমে তারা মরদেহটি একটি ড্রামে ভরে রাখে। পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে অধিরের অটোতে করে ড্রামটি মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদী খাঁন থানার বোয়ালখালীস্থ বিসিক এলাকায় বালুর মাঠের কাছে নিয়ে যায়। ড্রাম রেখে অটোচালক চলে গেলে আসামিরা ড্রামটিকে বালুর মাঠের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে কাঁদাযুক্ত একটি স্থানে লাশ পুঁতে ফেলে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.