বিএনপির ‘ভয়’ যেখানে

বিএনপির ‘ভয়’ যেখানে

রাজনীতি: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ‘বৃহত্তর ঐক্য’ গঠন করতে মাঠে নেমেছে বিএনপি।

বেশ কিছু দাবি আদায়ে সরকারকে চাপে রাখতে গত ২৪ মে থেকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু করে দলটি। এতোমধ্যে আট থেকে ১০টি

রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে সংলাপ করেছে বিএনপি। দলগুলো সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন করতে বিএনপির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছে। চলতি মাসে (জুন) সরকারবিরোধী বাকি দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত যাদের সঙ্গে বিএনপির সংলাপ হয়েছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর মতপার্থক্য রয়েছে।

এ নিয়ে কিছুটা ‘ভয়ে’ রয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে সংঘটিত সাত দলীয় গণতন্ত্র মঞ্চের একজন গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির মতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন বা তিন মাস হওয়া উচিত। তবে সরকারবিরোধী দলগুলো চাইছে

মেয়াদটা আরও বেশি হোক। মেয়াদ বেশি হলে বিএনপির ভয় যদি এ সময়ের মধ্যে নতুন রাজনীতির উত্থান হয়। এ ছাড়া যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অংশগ্রহণ করবে, তারা যদি নতুন রাজনীতি সামনে আনতে সক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা আকৃষ্ট হবে, এমন ভয়ও পাচ্ছে বিএনপি।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ বেশি চাওয়ার কারণ হিসেবে সাত দলের এক নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি, গুম-খুনের বিচার করা, পাচারকৃত অর্থ ফেরত, নির্বাচন কমিশন গঠনসহ নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ বেশি হওয়া জরুরি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মতপার্থক্যের সন্দেহজনক অবস্থার কথা স্বীকার করেন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, এটা হতে পারে। কিন্তু বিস্তারিত আলোচনা শুনিনি। তবে আমাদের দাবি একটাই বর্তমান সরকারের পদত্যাগ।

সাত দলের গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সমঝোতা বা দরকষাকষির প্রশ্নই নেই। সাত দলের ঐক্যের প্রাথমিক ভিত্তিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের দাবি।

এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সবার একটাই কথা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ। এরপর কেউ বলবে ইন্টারিন গভর্নমেন্ট, কেউ কেয়ারটেকার আবার কেউ বলবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। এসব নিয়ে শুধু বিতর্কই করা যাবে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে কোনও বিতর্ক নাই। যত দিন লাগে সেই সরকার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিবেশ করবে। সময় নিয়ে বিতর্ক তুলবো না।


Leave a Reply

Your email address will not be published.