আমলে নিচ্ছে না আ’লীগ, লাভ দেখছে বিএনপি

আমলে নিচ্ছে না আ’লীগ, লাভ দেখছে বিএনপি

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এজন্য ডান-বাম, অতি ডান-অতি বামসহ ছোট ছোট দলগুলোকে নিয়ে

বড় ধরনের মোর্চা করার চেষ্টা করছে মাঠের প্রধান বিরোধী এ দলটি। বিশেষ করে আওয়ামী বিরোধী একটি বৃহৎ বলয় তৈরি করে বিএনপি ও তার মিত্ররা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে দীর্ঘদিন থেকেই।

এবার ওই সব দলগুলোর সাথে মোর্চা গঠনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরকারকে বৃহৎ পরিসরে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে সফল হতে চায় তারা। যদিও বিএনপির মোর্চা গঠন ও কঠোর আন্দোলনের হুমকির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বিগ্ন নয় আওয়ামী লীগ।

সরকারি দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের মতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে বড় ধরনের আন্দোলন করেও সফল হয়নি বিএনপি ও তার মিত্ররা। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে ড. কামাল

হোসেনের গণফোরাম, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যসহ ছোট ছোট বেশ কয়েকটি দল নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু তাতেও সফল হয়নি। নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছিল। জনগণের রায়ে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়। এবারো নির্বাচনের আগে সরকার পতনের জন্য যে ঐক্যের ডাক দেয়া হচ্ছে সেটা জাতির সাথে নতুন করে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির আন্দোলন আসলে কবে হবে? ঈদতো একটা চলে গেল, আরেকটা সামনে। কোন ঈদের পরে আন্দোলন হবে সেটা তারা নিজেরাও জানে না। তারা গত এক যুগ ধরে বলে আসছে ঈদের পরে, বর্ষার পরে, শীতের পরে- এ ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে।

আওয়ামী লীগ তাদের এ হুমকিতে নতুন করে উদ্বিগ্ন নয়। তিনি বলেন, অতীতের মতো যদি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে, জ্বালাও-পোড়াও করে, পেট্রোল বোমার রাজনীতি করে তাহলে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আমরা অতীতেও রাজপথে ছিলাম, এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা রাজপথ ছাড়ব না।

বিএনপির মোর্চা গঠন প্রসঙ্গে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দিগি¦দিক শূন্য হয়ে পড়েছে। তাদের হাতে এখন কোনো কাজ নেই, জনগণের কাছে যাওয়ার মতো কোনো ইস্যু খুঁজে না পেয়ে দলছুট কিছু নেতাদের সাথে, নাম ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব কিছু ভুইফোঁড় সংগঠনের সাথে বৈঠক করে তামাশা করছে। যাদের সাথে বিএনপি বৈঠক করে মোর্চা গঠনের কথা বলছে তারা কি রাজপথে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে? তাদের তো কোনো নেতাকর্মীই নাই,

আবার তাদেরকে সাথে নিয়ে সরকার পতন আন্দোলন গড়ে তুলবে- এটা হাস্যকর। দেশের জনগণ এতে কোনোভাবেই বিভ্রান্ত হবে না। শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অর্জনের সাথে দেশের জনগণ আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। জনগণের প্রতি আমাদের সেই বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। ওই সময় সরকার শুধু রুটিনমাফিক দায়িত্বপালন করবে।

আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির একাধিক নেতা আলাপকালে বলেন, গত একযুগের বেশি সময় ধরে বিএনপি ও তার জোট সঙ্গীরা বড় ধরনের কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও তার দল ছোট ছোট দুয়েকটি সভা-সমাবেশ করলেও দৃশ্যমান কোনো ধরনের বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার টানা একযুগের বেশি ক্ষমতায় রয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরেও নানা ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্কট এখনো কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বলে মনে হয় না। তাছাড়া আন্দোলন করার মত শক্তি সামর্থ্য যেমন বিএনপির নেই তেমনি অন্যদিকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার মতো সেই পর্যায়ের নেতৃত্ব এখন নেই।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেছেন, নিজ দলের মধ্যেই যাদের ঐক্য নেই তারা আবার অন্যদের নিয়ে ঐক্য করবে কিভাবে? বিএনপি ও তার সমমনাদের মধ্যে ঐক্যের চেয়ে বরং দূরত্বই বেশি দৃশ্যমান। গত নির্বাচনের আগেও বিএনপির ঐক্যের কিম্ভূতকিমাকার চেহারা দেশের মানুষ দেখেছে। ঐক্যের নামে বিএনপি ও তার শরীকদের মধ্যে লেজেগোবরে অবস্থা দেশের মানুষের স্মৃতি থেকে এখনো মুছে যাবার কথা নয়। তিনি বলেন, বিএনপি এখন জনগণের কাছে যাওয়ার জন্য কোনো ইস্যু খুঁজে না পেয়ে তারা এখন সময় ক্ষেপণের জন্য নিজ বলয়ে সংলাপ করছে। বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টির নামে বৃহত্তম তামাশা সৃষ্টি করে বিএনপি নিজেদের ব্যর্থতা আড়ালের অপচেষ্টা করছে। বিএনপির নেতায় নেতায় সংলাপ জনগণ এর আগেও দেখেছে। কিন্তু জনগণ পর্বতের মূষিক প্রসব ছাড়া আর কিছুই দেখেনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, এককভাবে আন্দোলন করার সক্ষমতা হারিয়েছে বিএনপি। তাই এখন অন্যদের দলে টানার চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এ দেশের কোনো প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published.