কদর বাড়বে শামীম ওসমানের

কদর বাড়বে শামীম ওসমানের

রাজনীতি: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রাণাধীন ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ও রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসার দৃশ্যমান খবর থাকলেও

সামনের দিন বিবেচনায় তাঁর ‘কদর’ ফের বাড়বে মনে করছেন অনুগামীরা। তাঁদের মতে, বিএনপি নানা ইস্যুতে এখন মাঠে রয়েছে। প্রশাসনও অনেক স্থানে নির্লিপ্ত থাকায়

বিএনপির নেতাকর্মীরা যা মন চাইছে তাই বলছে সভা সমাবেশে। আগামীতে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করতে চাইলে শামীম ওসমানকে প্রয়োজন হবে। ১৯৯৯ সালে

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লং মার্চ ঠেকিয়ে তখন থেকেই আলোচিত শামীম ওসমান। যদিও শামীম ওসমানের দাবী তিনি লং মার্চ ঠেকাননি বরং বিলম্ব করাতে চেয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের বিশাল একটি কর্মীবাহিনী রয়েছে যারা আওয়ামী লীগের তুলনায় নেতাকেই বেশী প্রাধান্য দেয়। নেতা যে পথে হাঁটেন তারাও সেই পথে।

গত ১৬ জানুয়ারী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগে বিষয়টি ভালোভাবে ফুটে উঠে। আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে তেমনভাবে মাঠে নামেনি শামীম ওসমানের অনুগামীরা। তিনি নিজে একটি সংবাদ সম্মেলন করলেও সেটা ছিল অনেকের দৃষ্টিতে দোষ এড়ানোর কার্য। এরই মধ্যে মহানগর ছাত্রলীগ ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। দুটি কমিটিতেই শামীম ওসমানের অনুগামীদের নিয়ন্ত্রন ছিল।

এদিকে কমিটি বিলুপ্তের পর শামীম ওসমান অনুগামীদের মান রক্ষায় ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। শহর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের ব্যানারে আলাদা কর্মী সমাবেশ করে ৫০০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এসব লোকজনদের নিয়েই তিনি আগামীতে এলাকার উন্নয়ন করার ঘোষণা দেন। বলেন, রাজনীতি করতে হলে পদ লাগে না। ওই ঘোষণারপর অনুগামীরা তৎপর হলেও কমিটি গঠনে তেমন কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এরই মধ্যে বিএনপি নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একাধিক সমাবেশ করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে বক্তব্য রেখেছেন। ৪ জুন সকালে ফতুল্লায় শামীম ওসমানের এলাকাতে যুবদলের কর্মসূচীতে যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ এসেছিলেন। বিএনপির এ জাগ্রতকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগের মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত লোক প্রয়োজন মনে করা হচ্ছে। সে আলোকে শামীম ওসমানের কদর আগামীতে বাড়তে পারে অনেকেই ধারণা করছেন। কারণ ২০১৪ সালের জানুয়ারীতে নির্বাচনের আগে বিএনপি যখন সর্বত্র জ্বালাও পোড়াও শুরু করে তখন ফতুল্লা এলাকা অনেকটাই ঠা-া ছিল।

মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা বলেন, আজকে আমরা সমাবেশ করেছি। আমাদের নেতা শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন মাত্র তিনি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। আমাদের প্রোগ্রাম চালিয়ে যেতে। অচিরেই তিনি মাঠে নামবেন। সমাবেশ করবেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল বলেছেন, আমাদের প্রিয় নেতা শামীম ওসমান, যাকে ঘিরে আমরা লড়াই সংগ্রাম করি, তার সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি আপাতত চিকিৎসার জন্য বিদেশে আছেন। তিনি দুয়েক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। আমাদের প্রিয় নেতা ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কান্ডারি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে খুব শিগগিরই একটা সমাবেশ করব। সেদিন আমরা বক্তব্য দেব এবং বক্তব্য শুনব।

সুত্রঃ দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম


Leave a Reply

Your email address will not be published.