নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রস্তাব

নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রস্তাব

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণ ও বিল খেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার পথ খুলতে যাচ্ছে। খেলাপির দায়ে দেওয়ানি বা সার্টিফিকেট মামলা চলমান না থাকলেই এ সুযোগ পাবেন নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকরা।

এ সংক্রান্ত একটি ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এ যুক্তের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ প্রস্তাবটি আরপিওতে যুক্ত হলে ঋণ ও বিল খেলাপিরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হওয়ার যে

বিধান এখন কার্যকর রয়েছে তা বাতিল হয়ে যাবে। আরপিওতে এ সংশোধনী অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মতামত নিতে আজ অর্থ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সেবা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে ইসি। ইতোমধ্যে সংশোধনীর এ প্রস্তাব সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ও ইসির আইন সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক বেগম রাশেদা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, ঋণ ও বিল খেলাপি হলেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না-এ বিধানটি অনেক কঠিন। আমরা এ বিষয়টি একটু সহজ করা উচিত বলে মনে করি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রার্থী বাতিলসংক্রান্ত যেসব মামলা হয়েছে তার ৩০ শতাংশ এ কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন, ঋণ বা বিল খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এ কারণে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মতো সাংবিধানিক অধিকার থেকে ক্ষুণ্ন করা সমীচীন নয় বলে মনে করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরপিওতে এ বিধান যুক্ত করা হলে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান-সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আইনেও একই ধরনের সংশোধনী আনার প্রয়োজন হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে আরপিওর ১২ ধারায় প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতায় ঋণ ও বিল খেলাপিরা প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রার্থী হওয়ার সাত দিন আগেই টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সেবা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল এবং ক্ষুদ্রঋণের খেলাপি টাকা পরিশোধ না করলে প্রার্থিতা বাতিলের নিয়ম রয়েছে। আর কোম্পানি বা ফার্মের খেলাপি ঋণ প্রার্থী হওয়ার আগের দিন পরিশোধের বিধান রয়েছে। ওইসব বিধান বাতিল করে শুধু যাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকবে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমানে কেউ ঋণ বা বিল খেলাপি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় না। সংশ্লিষ্টদের খেলাপি টাকা পরিশোধের জন্য সুযোগ দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যেও পরিশোধ না করার এক পর্যায়ে মামলা করা হয়। তারা আরও জানান, অনেক ঋণ ও বিল খেলাপি হওয়ার বছরের পর বছর পার হলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

নতুন বিধান কার্যকর হলে, মামলা না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অপর দিকে বিদ্যমান আরপিওর বিধান অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ঋণ বা বিল খেলাপি হলেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য ঘোষিত হন। শুধু ঋণ ও বিল খেলাপির দায়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল। নতুন এ প্রস্তাব আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত হলে শুধু ঋণ বা বিল খেলাপির দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের পথ বন্ধ হবে। তবে মামলা চলমান থাকলেই কেবল নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

এ বিষয়ে ইসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩’ এর অধীনে ঋণ আদায়ের জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো আদালতে অন্যুন ছয় মাস আগে মামলা হয়ে থাকলে তিনি সংসদ-সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার বা থাকার যোগ্য হবেন না। একইভাবে সরকারি সংস্থা বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ ‘সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩’-এর অধীনে সার্টিফিকেট মামলা বা দেওয়ানি আদালতে মামলা করলে এবং তা চলমান থাকলেও তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

এ ছাড়া বাণিজ্যিক কোম্পানি, ব্যাংক কোম্পানি অথবা যৌথ কারবারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের মামলা হয়ে থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক, শেয়ার হোল্ডার পরিচালক ও অংশীদাররাও নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, ওই সব মামলার বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে রিট, আপিল, রিভিশন বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা ঋজু হলে বা চলমান থাকলেও ওই মামলা সক্রিয় রয়েছে বলে গণ্য হবে। তবে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হলে তা আর চলমান নয় বলে গণ্য হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.