যত টাকা পাবে ফায়ার সার্ভিসের নিহতদের পরিবার

যত টাকা পাবে ফায়ার সার্ভিসের নিহতদের পরিবার

কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড।

ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এত সময় পার হলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন।

অগ্নিকাণ্ডেএখন পর্যন্ত নিহত ৪৯ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী রয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের এই নিহত সদস্যদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১৫ লাখ করে টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপোর মালিক পক্ষ।

আজ সোমবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বিএম কনটেইনার ডিপোর মালিকপক্ষ গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিহত সদস্যদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ঘটনায় গুরুতর আহত কিংবা অঙ্গহানীর শিকার ব্যক্তিদেরকে ১০ লাখ টাকা করে এবং অন্যান্য আহতদের ৬ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আহতদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোগী ও তাদের স্বজনদের খাবারের ব্যবস্থাসহ বিনামূল্যে ওষুধের জন্য দোকান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রক্তদানের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রায় ৫০০ জনকে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত কর্মচারীদের পরিবারে শিশু থাকলে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার পরিবারকে বেতনের সমপরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকলে তার চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে বিএম কন্টেইনার ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কন্টেইনার থেকে অন্য কন্টেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি কন্টেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্থানীয় শ্রমিকসহ অনেকে হতাহত হন। পরবর্তী সময়ে ইউনিট আরও বাড়ানো হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের ১৮৩ কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। এছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন


Leave a Reply

Your email address will not be published.