শিশুসন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকতে একটি চাকরি চান মনিরুজ্জামানের স্ত্রী

শিশুসন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকতে একটি চাকরি চান মনিরুজ্জামানের স্ত্রী

সীতাকুণ্ডের বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ফায়ার ফাইটার মনিরুজ্জামান (৩০)।

দুই মাস বয়সী শিশু সন্তান জান্নাতুল মাওয়াকে নিয়ে এখন অকূল পাথারে পড়েছেন মনিরুজ্জামানের স্ত্রী মাহমুদা আকতার মুক্তা।

স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল মুক্তা এখন শিশু সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকতে একটি চাকরির আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্টদের কাছে।

স্বজনরা জানান, মনিরুজ্জামান সীতকুণ্ডের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন নেভাতে গেলে অন্যদের সঙ্গে তিনিও বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মারা যান।

একদিন পর নিহতের মামা মো. মীর হোসেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার লাশ শনাক্ত করেন। মৃতদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানাধীন সাতবাড়িয়া নাইয়ারা গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে মনিরুজ্জামান। ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। নিহত ফায়ার ফাইটার মনিরুজ্জামানের স্ত্রী মাহমুদা খানম মুক্তা বলেন, ‘মাত্র দুই মাস বয়সী মেয়েকে রেখে আমাদের ছেড়ে অকালে চলে গেছেন স্বামী মনিরুজ্জামান। ২০১৬ সালে আমাদের বিয়ে হয়। আমার স্বামীর পাঁচ ভাই এক বোন। তাদের পৈতৃক সম্পত্তির মধ্যে আছে ৭ শতক জমির ওপর একটি টিনের ঘর। সেখানে চার ভাই থাকেন। বসবাসে খুব কষ্ট হয়। বিয়ের পর স্বামীর কর্মস্থল ছিল ঢাকায়। আমরা সেখানে ভাড়া বাসায় ছিলাম। দুই মাস আগে তিনি বদলি হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে আসেন। এ কারণে আমরা ঢাকার বাসা ছেড়ে দিই। আমি পিতার বাড়ি পটুয়াখালীতে যাই।’

তিনি আরও বলেন, আমরা স্বামীর আয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর ছিলাম। এখন কীভাবে কাটবে আমাদের বাকি সময়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। যদি আমি একটি চাকরি পেতাম তাহলে একমাত্র মেয়েকে মানুষ করতে পারতাম। মুক্তা আরও বলেন, আমি ঢাকার কবি নজরুল কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.