আগামী নির্বাচন নিয়ে যা জানালেন জাপানের রাষ্ট্রদূত

আগামী নির্বাচন নিয়ে যা জানালেন জাপানের রাষ্ট্রদূত

রাজনীতি: গত নির্বাচনের তুলনায় আগামী নির্বাচন ভালো এবং অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদী ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

এ ব্যাপারে তিনি কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও দেখছেন। তাঁর আশা, আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে আরো উদ্যোগ নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাব ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, এই সেতু উদ্বোধন হবে চমত্কার একটি মুহূর্ত।

এই সেতু ও অন্যান্য মেগাপ্রকল্প বাংলাদেশের ব্যাপারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সরকারের নেওয়া বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ আমি লক্ষ করেছি। ’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে ইতো নাওকি বলেন, ‘৫০ বছর পর প্রথমবারের মতো দেশে নতুন একটি আইন হয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। ’

তিনি বলেন, আগামী বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমগুলো প্রায় প্রতিদিনই কথা বলছে এবং কিছু না কিছু খবরাখবর দিচ্ছে। তাই যে কোনো রাষ্ট্রদূতের এ ব্যাপারে আগ্রহ থাকতে হবে। গত জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় আগামী দিনে ভালো নির্বাচন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আরো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জাপানের রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন। সরকারের প্রতিনিধিদের তিনি বলছেন, জাপান এবার অপেক্ষাকৃত ভালো এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা অব্যাহত রাখব। ’রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জেনে বিস্মিত হবেন যে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের পরপরই কিছু বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাপান দূতাবাস বিবৃতি দিয়েছিল। সেখানে মূল দৃষ্টি ছিল নির্বাচন পরিস্থিতিকে ঘিরে সহিংসতা। ’ গতবার যেভাবে নির্বাচনের ধরন নিয়ে দুর্ভাগ্যজনক কিছু ঘটনা ছিল বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভালো নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যমের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কণ্ঠস্বর গণমাধ্যম তুলে ধরে। সব ভোটার যেন সমান সুযোগ পান এবং প্রতিটি ভোট যেন গণনা করা হয় সে জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ’

জাপানের রাষ্ট্রদূত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ কিছু আইন ও বিধানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে গণমাধ্যমের কাজের সুযোগ থাকবে বলে আমি আশাবাদী। ’ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশে স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা থাকার ওপরও জোর দেন জাপানের রাষ্ট্রদূত। নাওকি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘যাঁরা বাংলাদেশ ও এর অর্থনীতির দিকে তাকাচ্ছেন তাঁরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সারা দেশে মানসম্পন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে দৃঢ় আস্থা রাখবেন। এগুলো বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা সৃষ্টি এবং আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সুবিধা সৃষ্টি করবে। ’জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, শিগগিরই ঢাকা ও নারিতার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হবে। এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার অনুভূতি সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারি এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক প্রস্তুতিতে কিছুটা দেরি করেছে। নাওকি বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি বলেন, এই দশকে বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হতে যাচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রো রেল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে। তিনি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর মতো মেগাপ্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপান বাংলাদেশের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি করতে চায়। বিমানবাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিশেষ করে রাডার ক্রয়ের আগ্রহের মাত্রা বোঝার জন্য জাপানের একটি বেসরকারি কম্পানি বাংলাদেশ সফর করেছে। রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের স্মরণ করিয়ে দেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি খুবই কঠিন বিষয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এই অঞ্চলের জন্য একটি অস্থিতিশীল হওয়ার কারণ হতে দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক হবে। ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিকাব সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দিন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.