চুর শুনে না ধর্মের বুলি, ৭ বছরে বিকাশ প্রতারণায় কোটিপতি শাহাদুল-হানিফ ও পারভীন চক্র!

চুর শুনে না ধর্মের বুলি, ৭ বছরে বিকাশ প্রতারণায় কোটিপতি শাহাদুল-হানিফ ও পারভীন চক্র!

কখনো বিকাশের প্রধান কর্মকর্তা আবার কখনো এজেন্ট। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণার একেক রকম ফাঁদ। গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় লাখ লাখ টাকা।

এভাবেই একের পর এক প্রতারণার করে যাচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার হবিবপুর (শাহপুর) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র বিকাশ প্রতরণার মাস্টারমাইন্ড শাহাদুল ইসলাম (৩৩), তার বড় বোন পারভীন বেগম (৩৬) ও তার দুলাভাই সিলেট জেলার

বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউপির কোনারাই গ্রামের মৃত তহির উল্লার পুত্র হানিফ আহমদ সহ তাদের হাতে গড়া একটি বিকাশ প্রতারক চক্র। এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত সুনামগঞ্জ-সিলেটসহ তথা বাংলাদেশে বিকাশের কর্মকর্তা ও এজেন্ট পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই সুনামগঞ্জ-সিলেটসহ তথা বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারকারী অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এই প্রতারক শালা, দুলাভাই ও বোন চক্র ফাঁদ পেতে গ্রাহক কিছু বুঝে ওঠার আগেই অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। অনেক সময় “এসএসএস” দিয়ে ব্যালান্স যোগ হওয়াসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে সরাসরি

টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। পাশাপাশি “হেল্পলাইন” থেকে ফোন করে অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ, নতুন অফার চালুসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহককে দিয়ে কয়েকটি “বাটন” চাপিয়ে কৌশলে টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করে নেয় এই চক্র। শালা, দুলাভাই ও বোন চক্রটি প্রায় ৭ বছর ধরে এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। আর প্রতারণা

করে হাতিয়ে নেওয়া কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ইতিমধ্যে শালা, দুলাভাই ও বোনের মধ্যে বিরোধ চলছে আজ বহুদিন থেকে। এই প্রতারক চক্রটি মূলত একটি বিদেশি পেইড অ্যাপস ব্যবহার করে তারা নম্বর ক্লোনের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছে। এই চক্র টাকার বিনিময়ে কৌশলে নিম্নআয়ের বিভিন্ন পেশার মানুষের নামে সিম রেজিষ্ট্রেশন করে তা সংগ্রহ করে। এই চক্র বিদেশি অ্যাপস ব্যবহার

করে এজেন্টদের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে তারা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সর্বশেষে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে সহজেই ক্যাশআউট করে নিচ্ছে। তাদের এম সদস্য হচ্ছে, বিশ্বনাথ কোনারাই গ্রামে মৃত তহির উল্লার পুত্র ও প্রতারক হানিফ আহমেদের আপন ছোটভাই কথিত সাংবাদিক পরিচয়দাতা মোঃ জয়নাল আহমদ এবং জগন্নাথপুর উপজেলার

প্রতারক শাহাদুল ইসলামের গ্রামের হবিবপুর (শাহাপুর) এলাকার ময়নুল হক। জয়নাল আহমদ যাতে তার এই বিকাশ প্রতারণার ফাঁদ প্রশাসনের নজরে না আসে সে জন্য সে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পত্রিকার আইডি কার্ড ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছে তার অপকর্ম। তবে আসলে সে পেশাদার কোন সাংবাদিক নয়। জানা গেছে, ২০০৬ সনে বিকাশ প্রতরণার মাস্টারমাইন্ড শাহাদুল ইসলামের

বড় বোন পারভীনকে বিয়ের সুবাধে প্রতারক হানিফ আহমদ তার পিত্রালয় হইতে শশুড়বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার হবিবপুর (শাহপুর) চলে যায়। তবে প্রতারক হানিফের মূল পেশায় ছিলো একজন কাঠমিস্ত্রি। অন্যদিকে তার শালা শাহাদুল ইসলাম লন্ডনে প্রায় ৪ বছর থাকার পর আনলিগ্যাল অবস্থায় ধরা খেয়ে দেশে চলে আসে ২০১৩ সনে শেষের দিকে। শালা শাহাদুল ইসলাম লন্ডন হইতে এসব বিকাশ প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল শিখে এসে

তার দল বড় করার জন্য বড় বোন পারভীন ও দুলাভাই হানিফকে তার সহযোগী হিসেবে কার্যক্রম শিখায় সে নিজেই। তবে ২০১৪ সন থেকেই শুরু হয় প্রতারক শালা, দুলাভাই ও বোন চক্রের প্রতারণার কার্যক্রম। উল্লেখ্য প্রতারক হানিফ ও পারভীনের বড় মেয়ে সানজিদা ইবার এমন একটি ভিডিও চলে আসে প্রতিবেদকের নিকট। যে ভিডিওতে সানজিদা ইবা মামা, বাবা ও মায়ের সকল প্রতারণার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত আকারে সে তুলে ধরে।

সানজিদা ইবার ভিডিও পর্যালোচনা করে শুনা যায, এই শালা, দুলাভাই ও বোন চক্র ২০১৪ সন হইতে ২০২২ সন পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। আর দুলাভাই ও বোন সরল বিশ্বাসে শালা শাহাদুল ইসলামের নিকট প্রতারণা করে উপার্জিত টাকা হইতে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আমানত রেখেছিলো। “চুর শুনে না ধর্মের বুলি” বোন ও দুলাভাইয়ের রাখা আমানতের ৬০ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে এসব অস্বীকার করছে শালা শাহাদুল। যার কারণেই ধীরে ধীরে

বেড়িয়ে আসতে চলচে বিকাশ প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড শাহাদুল ইসলামের তলের বিড়াল! তবে এই টাকা যেহেতু অবৈধ পথে কামাই আর লেনদেনেরও কোন তথ্য-প্রমাণ নাই বোন ও দুলাভাইয়ের নিকট সে সুবাধে সুযোগ হাতছাড়া করতে মোটেও রাজি নয় বিকাশ প্রতরণার মাস্টারমাইন্ড শালা শাহাদুল। কিন্তু এই টাকা লেনদেনের ঝামেলায় কয়েকবার শালিস বৈঠক হলেও শেষ মূহুর্তে কোন মীমাংসা হয় নি। এসব প্রতারণার টাকার ঝামেলা নিয়ে প্রতারক হানিফ আহমদের চাচা বিশ্বনাথ কোনারাই গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি বিলাল আহমদের বসতবাড়িতেও কয়েকবার শালিস বৈঠকের আয়োজন হয় তবে কোন সুষ্ঠু সমাধান আসে নি। এছাড়া গত কয়েকদিন আগে প্রতারক হানিফের চাচা কোনারাই গ্রামের মুরব্বি বিলাল আহমদের

বসতবাড়ি থেকে প্রতারক হানিফের স্ত্রী পারভীন ও মেয়ে ইবা প্রতরণার মাস্টারমাইন্ড শালা শাহাদুলের বিরুদ্ধে একটি সাক্ষাৎকার দেয়। তবে নাম না প্রকাশ করার শর্তে কোনারাই গ্রামের অসংখ্য লোকজন জানান, প্রতারক হানিফকে সবসময় নানা সার্বিক সহযোগিতা করছে তার চাচা মুরব্বি নামধারী প্রতারক বিলাল আহমদ কারণ সেও তাদের সহযোগী বলে অনেকে মন্তব্য করেন। আরো জানা গেছে, বিকাশ প্রতরণার মাস্টারমাইন্ড শালা শাহাদুলের দুলাভাই হানিফ ও বোন পারভীনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের ছাতক থানা ও সুনামগঞ্জসহ সিলেট জেলার বিভিন্ন থানায় কয়েকটি বিকাশ প্রতারণার মামলাও চলমান রয়েছে।

ইতিমধ্যে, সুনামগঞ্জে বিকাশে প্রতারণার দায়ে বিকাশ প্রতরণার মাস্টারমাইন্ড শালা শাহাদুলের বড় বোন পারভীন ও তার স্বামী হানিফসহ তাদের আরেক সহযোগী ময়নুল হককে ২০২১ সনের ২৫ মে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব- ৯) এর একটি অভিযানিক দল আটক করেছিলো। এসময় তাদের নিকট হইতে প্রতারণায় ব্যবহার করা একটি ল্যান্ডফোন, ১২টি মোবাইল, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, এটি এম কার্ডসহ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬০০শত টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে এসময় ঘাঁ ঢাকা দেয় নেপথ্যের নায়ক বিকাশ প্রতরণার মাস্টারমাইন্ড শালা শাহাদুল।

এ ব্যাপারে বিকাশ প্রতরণার মাস্টারমাইন্ড শালা শাহাদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকদ্দমা নাই। আমার দুলাভাই একজন প্রতারক। এজন্য আমি থাকে তাড়িয়ে দিয়েছি বিধায় সে আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনি চাইলে আমাদের কমিশনার সাহেবের সাথে আলাপ করে আমার সম্পর্কে জানতে পারেন।
এ ব্যাপারে বিলাল আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এসব অস্বীকার করে বলেন সে আমার ভাতিজা নয় সে একজন চিহ্নিত প্রতারক। আমি তার একটা বিচার করেছিলাম এর বাহিরে তার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে বিকাশ প্রতারক হানিফ আহমদ বিশ্বনাথ থানার একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বিধায় আইনগত ভাবে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.