সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ১৪৪ ধারা জারি

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ১৪৪ ধারা জারি

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরাম ও উপজেলা ছাত্রলীগ একই স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বেলকুচির মুকুন্দগাঁতী বাস টার্মিনাল এলাকায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বুধবার রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুর রহমান।

ঘটনার বিবরণে জানাযায়, গত রবিবার সন্ধ্যায় বেলকুচি পৌর এলাকার জীধুরিস্থ মাজেম মিয়ার মোড়ে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আকতার হামিদ ভাঙ্গাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভূইয়া ও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদারের উপর হামলার অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আকতার হামিদসহ তার সহযোগী ৭ জন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ডাক দেয় দুই গ্রুপ। ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন,

রবিবার সন্ধায় পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার সহযোগীরা আমার উপর মাজেম মিয়া মোড়ে পৌঁছামাত্র অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আমাকে দেশী অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, এসময় আমার সঙ্গে থাকা ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের তালুকদারকে ব্যাপক মারপিট করেছে। সে বর্তমানে আহত অবস্থায় এনায়েতপুর খাঁজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজে এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছি।

কিন্তু ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোন আসামীকে এখনো গ্রেফতার করেনি। আসামীরা সবাই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর হুমকি ধামকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বিচার না পেয়ে আমাদের চেয়ারম্যান ফোরামের কাছে অভিযোগ করি। এর প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেই।

উপজেলার সকল চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ তাদের সমর্থনদের নিয়ে এই মানববন্ধনে উপস্থিত থাকবেন। এ খবর শুনে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আমরা প্রশাসনের এমন আচরনে বিক্ষুব্ধ। বাংলাদেশ চেয়ারম্যান ফোরামের যুগ্ন সম্পাদক ও বেলকুচি রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোনিয়া সবুর আকন্দ বলেন,

আমাদের একজন চেয়ারম্যান ও একজন প্যানেল চেয়ারম্যান থানার অতি নিকটে মাদকসেবী এবং পৌর ছাত্রলীগের সভাপতির হাতে গুরুতর আহত হলো অথচ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিলো না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে মানববন্ধনের ডাক দিলাম কিন্তু সেই স্থানেই সেই হামলাকারীরা মানববন্ধনের ডাক দেয় কিভাবে?।

এখানে প্রশাসনের আশ্রয়েই এই হামলা হয়েছে। বড় কোন ইন্দনে প্রশাসন এমন আচরণ করছে আমাদের সাথে। দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার না করলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো আমরা। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রকি বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলকে নিয়ে ফেসবুকে উল্টাপাল্টা পোষ্ট করায় আমরা ছাত্রলীগ মানববন্ধনের ডাক দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন কেন ১৪৪ ধারা জারি করেছে তা আমাদেন জানা নেই।

বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি মামলা নিয়েছি। আসামী ধরার চেষ্টা করছি। এমন সময় দুই গ্রুপ একই স্থানে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে আমি রাত সাড়ে ৯টা থেকে মাইকিং করছি। যাতে কাল কোন কিছু না হয়। বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, বেলকুচি উপজেলা সদরে একই স্থানে চেয়ারম্যান ফোরাম ও ছাত্রলীগ মানববন্ধন ডাক দেয়ায় আমরা প্রসাশনের পক্ষ থেকে শাস্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.