নতুন কমিটিতে আ.লীগের নেতৃত্বে যারা

নতুন কমিটিতে আ.লীগের নেতৃত্বে যারা

ভোলা সরকারি বালক স্কুল মাঠে শনিবার উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনের প্রথম পর্ব শেষে বিকালে নতুন কমিটি গঠনকালে বর্তমান সম্পাদক আবদুল মমিন টুলুকে সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লবকে

সম্পাদক করার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ট কাউন্সিলর ঘণ্টাব্যাপী দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে দলের স্বার্থে প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন

কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এ সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত কাউন্সিলরদের মতামতের প্রতি

সম্মান রেখে সকলকে নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে গতিশীল করার জন্য সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানান। কমিটি গঠন সভার সভাপতিত্ব করেন বরিশালের অভিভাবক পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও অবিক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ।

সভার সিদ্ধান্তক্রমে আগের কমিটির সভাপতি ফজলুল কাদের মজনুকে ফের সভাপতি, আবদুল মমিন টুলুকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মইনুল হোসেন বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওয়ায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো দিন ষড়যন্ত্র করেনি। কিন্তু ষড়যন্ত্রেও শিকার হচ্ছে বারবার। ষড়যন্ত্রকারী কারা তা আজ সবার জানা। অপরদিকে তিনি তাদের দলে কোনো মাদকসেবী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের স্থান নেই বলেও উল্লেখ করেন। তিনি শুরুতে দ্বীপজেলা ভোলাকে দ্বীপের রানী উল্লেখ করে ছন্দময় প্রকৃতির বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম তার বক্তব্যে বলেন, খুনি জামায়াত-বিএনপিকে আর খুনের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। এতের প্রতিহত করতে হবে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনুর সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- বিশেষ অতিথি দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউছুফ হোসেন হুমায়ুন, প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোলাম রাব্বানী ও আনিসুর রহমান। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল।

বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব। ৬ বছর ৩ মাস ২০ দিন পর অনুষ্ঠিত হলো এই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। রঙিন ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শহর। জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিশাল প্যান্ডেলে সুসজ্জিত মঞ্চের পাশপাশি ২ হাজার ৫শ জনের জন্য নির্ধারিত আসনে অংশ নেন ৩১৭ জন কাউন্সিলর, ১ হাজার ৭ জন ডেলিগেট ও ৬শ জন অতিথি। শুরুতে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে পতাকা উত্তোলনের পরপরই বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় নেতারা।


Leave a Reply

Your email address will not be published.