সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত…

সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত…

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশকে মারধরের মামলায় আসামি ধরার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যকার সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন।

রবিবার দিবাগত রাতে পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারি কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশকে মারধরের মামলার ৩২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার আগে ভারতে

ধর্মীয় কটূক্তি নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আজিজুল হকের দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সে সময় হামলায় এসআই আজিজুল আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও এক শ থেকে দেড় শ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রবিবার রাতে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকেই বিহারি কলোনির গলি ও মূল সড়ক টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ বাধা দিলেও তারা রাস্তা ছাড়েনি। সকাল ৭টা থেকে পৌনে ৯টা পর্যন্ত

নারায়ণগঞ্জ-আদমজী সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-চিটাগাংরোড সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ধাওয়া দিলে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ ও র‌্যাব। লাঠিপেটাসহ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ।

বিহারি ক্যাম্পের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, শুক্রবার মসজিদের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। রবিবার রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ ক্যাম্পের ভেতর অভিযান চালায়। পুলিশ অনেক নারী-পুরুষকে মারধর করেছে। আবার ঘটনার সময় মসজিদে যায়নি এবং হামলায়ও ছিল না, এমন লোকজনকেও গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ক্যাম্পের অধিবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ও মাদকসহ বিভিন্ন দাগি আসামিদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার পর সকাল থেকেই বিহারি কলোনির লোকজন সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক শ ফাঁকা গুলি, ৫০টি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আরো একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দুজন এক দিনের রিমান্ডে: রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ওসিসহ পুলিশের ওপর হামলা ও ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় দুজনের এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে অন্য ১০ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া দুই আসামি হলেন মোস্তাফিজুর ও উমর ফারুক। কারাগারে পাঠানো ১০ আসামি হলেন আশিক, মুন্না, অন্তর, আব্দুল খা?লেক, মিজান, শাওন, নুর নবী, শাহিন, মাসুদ ও আবুল কালাম। মামলার সূত্রে জানা যায়, ১০ জুন ভারতে ধর্মীয় কটূক্তির প্রতিবাদে জুমার নামাজের পর ঢাকা উদ্যান কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে মুসল্লিরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে ওসি আবুল কালাম আজাদসহ বেশ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান মুসল্লিরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published.