সিলেটে নৌকার ভরাডুবির মাঝেও বড় বিজয় এলিমের

সিলেটে নৌকার ভরাডুবির মাঝেও বড় বিজয় এলিমের

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের বাড়ির পাশের বিয়ানীবাজার পৌরসভায় বিদ্রোহীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডুবেছে নৌকা।

নৌকার প্রার্থী আব্দুস শুকুরকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুকুল হক। একইভাবে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলায় আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া সুলতানপুর ও কাজলসার ইউনিয়নে

পুনর্নির্বাচনে বিদ্রোহীদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন নৌকার ২ প্রার্থী। তবে ফল বিপর্যয়ের বিপরীতে কেবল গোলাপগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতেছেন নৌকার প্রার্থী মনজুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম।

গত বুধবার সকাল থেকে দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে ঘোষিত ফলাফলে এমন চিত্র দেখা গেছে। সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে এবার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী

আব্দুস শুকুরসহ মোট প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। গতকাল বুধবার সারাদিন ভোটগ্রহণ শেষে রাতে ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, চামচ প্রতীকে ৪ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্রপ্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) ফারুকুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোবাইল ফোন মার্কার স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস সবুর

পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৮ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আব্দুর শুকুর ২ হাজার ২৭০ ভোট পেয়ে হয়েছেন তৃতীয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের নিজ কেন্দ্র পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী জিততে পারেননি। এ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আব্দুস শুকুর পেয়েছেন ২৬২টি ভোট।

আর বিজয়ী প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ফারুকুল হক পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জগ প্রতীকের প্রার্থী মো. তোফাজ্জুল হোসেন ১ হাজার ৪৯৯, কম্পিউটার প্রতীকের প্রার্থী আহবাব হোসেন ১ হাজার ৪৬৩ ভোট, হ্যাঙ্গার প্রতীকে মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ ১ হাজার ১৬৪ ভোট, হেলমেট প্রতীকে মো. আব্দুল কুদ্দুছ ৬৭১ ভোট, নারিকেল গাছ প্রতীকে মোহাম্মদ অজি উদ্দিন ২১৫ ভোট, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আবুল কাশেম ১৭৩ এবং লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. সুনাম উদ্দিন পান ১৩৮ ভোট।

এর আগে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতার নির্বাচনী আসনের ২ উপজেলায় (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) নৌকার ভরাডুবি হয়। নাহিদের নিজ উপজেলা বিয়ানীবাজারের ১০ ইউপির মধ্যে মাত্র ৩টিতে নৌকার প্রার্থী জয় পান। বাকিগুলো মধ্যে ২টিতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, ২টিতে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন।

অপরদিকে, গোলাপগঞ্জে ১০টি ইউপির মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। বাকি ৬টির মধ্যে ২টিতে বিদ্রোহী, ২টিতে জামায়াতে ইসলামী, একটিতে জাতীয় পার্টি এবং আরেকটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। এই ২ উপজেলায় নৌকার ২ জন প্রার্থী জামানত হারান। একই ভরাডুবি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ও কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ২ ইউনিয়নেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ৬ নম্বর সুলতানপুর ইউনিয়নের ফলাফলে ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী

প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল পান ৩ হাজার ৩৭৩ ভোট। ৩ নম্বর কাজলসার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আশরাফুল আম্বিয়া ৩ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা চেরাগ আলী পান ২ হাজার ৮৭৭ ভোট। আর নৌকার প্রার্থী জুলকারনাইন লস্কর ২ হাজার ১৭৬ ভোট পেয়ে হন তৃতীয়। সিলেট জেলায় নৌকার ভরাডুবির মাঝেও একমাত্র ব্যতিক্রম সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী

লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম। বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি বিপুল ব্যবধানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের ভিপি শফিক উদ্দিনকে ৩৩ হাজার ২১৩ ভোট ব্যবধানে হারিয়ে জয়লাভ করেন। ভোট গণনা শেষে ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, নৌকার প্রার্থী মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯২০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিক উদ্দিন পান ১৬ হাজার ৭০৭ ভোট। বুধবার সন্ধ্যায় ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানপদে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা।


Leave a Reply

Your email address will not be published.