বিএনপি ভোটে এলেই সমস্যা দূর হবে

বিএনপি ভোটে এলেই সমস্যা দূর হবে

রাজনীতি: সবাই অংশ না নিলেই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচন ঠেকাতে গেলেই গণ্ডগোল হয়। বিএনপি ভোটে এলেই অনেক সমস্যা দূর হবে বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে

জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনধি দল যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে গিয়ে তিন কংগ্রেসম্যানসহ দেশটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করে।

ওই সফরে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন, র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শ্রমিক ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। এ সফরের আগে-পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই তিন সফর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সফরে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) প্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে ফারুক খান বলেন, তাঁর সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। আমরা বলেছি, বিশ্বের অন্যসব গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়,

বাংলাদেশেও সেভাবে হয় এবং হবে। তবে পৃথিবীর সবখানেই নির্বাচনে হেরে যাওয়ারা বলে থাকে, সমস্যা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এটা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও নির্বাচনের ফল মানেননি। তিনি বলেন, আমরা সেখানে বলেছি- বাংলাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় তখনই, যখন সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

নির্বাচন নিয়ে তখনই প্রশ্ন ওঠে, বিএনপি ও সমমনা দলগুলো যখন নির্বাচনে না এসে নির্বাচনকে প্রতিহত করতে চায়; আর তখনই গোলমাল হয়। আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে আমরা বলেছি, নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো অবজারভেশন থাকলে নির্বাচন কমিশনের কাছে যেতে পারে। তারপর ইসি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে-

এ বিষয়গুলো তাদের দরকার।কমিটির সভাপতি বলেন, আমরা বলেছি, বিএনপি নির্বাচনে এলে আমাদের নির্বাচন নিয়ে অনেক সমস্যা দূর হতে পারে। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। আমাদের সংবিধানের ভেতরে আলোচনার অনেক সুযোগও আছে। বিএনপি যদি বলে, তারা নির্বাচনে যাবে, তাহলে তো কথার কিছু নেই। কিন্তু তারা যদি বলে, নির্বাচনে যাবে না, প্রতিহত করবে; তখন তো আলোচনার কিছু থাকে না।

তিনজন সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে ফারুক খান বলেন, আমাদের ব্যাপারে তাঁদের যথেষ্ট আশাবাদী মনে হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক ভালো চলছে। আগামীতে আরও ভালো চলবে।
এই তিনজনের বাইরেও সাউথ ও সেন্ট্রাল এশিয়াবিষয়ক উপমন্ত্রী ড্যানিয়েল লুসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, আমাদের নির্বাচন, র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা, লেবার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার ফলাফল হয়তো পরে দেখা যাবে। তবে আমাদের মনে হয়েছে, তাঁরা সন্তুষ্ট হয়েছেন।

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সত্যি; কিন্তু র‌্যাব তো যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে সৃষ্টি। তোমরাই র‌্যাবকে প্রশিক্ষণ দিয়েছ। তোমাদের গাইডলাইন অনুযায়ী তারা অপারেশন করেছে এবং তারা যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছে। তারা অবশ্য বলছে, বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। গত দু-তিন মাসে অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে তারা দেখেছে।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছি। তাঁরা তিনজনেই একমত হয়েছেন, এ ব্যাপারে কাজ চলছে এবং কাজ অব্যাহত থাকবে। মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান, মো. হাবিবে মিল্লাত, নাহিম রাজ্জাক, নাবিল আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশ নেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.