প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী, অতঃপর যা ঘটলো

প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী, অতঃপর যা ঘটলো

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় পরকীয়া প্রেমিকের বাড়ি থেকে ইতালী প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শনিবার রাত ১১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শামীম হোসেন।

এর আগে একই দিন সকাল ৮টায় সদর উপজেলার ধর্মপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামিদের থেকে চুরি যাওয়া ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশা ইউনিয়নের ভদ্রগাঁও গ্রামের মিকার বাড়ির শেখ আল আমিনের স্ত্রী সামিরা খাতুন (২৩) সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের আব্দুল লতিফের স্ত্রী সালমা আক্তার (৪০) (ছদ্মনাম)।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. হুমায়ুন কবির একজন ইতালী প্রবাসী। ইতালি থাকার সুবাদে তার স্ত্রী সামিরা খাতুন (২৩) (ছদ্মনাম) ফারুক হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়।

বিষয়টি তার শ্বশুর-শাশুড়ি জানতে পেরে তার স্বামী হুমায়ুন কবিরকে জানায়। খবর পেয়ে ৫ মাস আগে তার স্বামী ইতালি থেকে দেশে চলে আসেন। দেশে আসার পর তিনি লক্ষ্য করে তার স্ত্রীর মোবাইল নাম্বারে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার অগোচরে পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

এর পর স্ত্রীকে সংশোধনের চেষ্টা করলে স্ত্রী তাকে নারী নির্যাতনের মামলার ভয় দেখান। গত ১২ জুন হুমায়ুন ৩ দিনের জন্য সোনাইমুড়ীর শানারবাঘ জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতে যায়। এ সুযোগে ১৪ জুন সকাল ১০টার দিকে শাশুড়িকে ঔষধ আনার কথা বলে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১০ হাজার টাকা, একটি স্যামসাং মোবাইল সেটসহ সে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার ১৫ জুন প্রবাসী হুমায়ুন কবির (৩৩) র‌্যাব-১১ ক্যাম্পে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করে। অভিযোগের আলোকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান এ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামিদের নিকট থেকে একটি স্যামসাং এন্ড্রোয়েড মোবাইল, এক জোড়া স্বর্ণের বালা, ২টি স্বর্ণের নেকলেছ, ৪ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ৪টি স্বর্ণের কানের দুল, ১টি স্বর্ণের হাতের ব্রেসলাইট, ৩টি স্বর্ণের চেইন, ৫টি স্বর্ণের আংটিসহ ১৫ ভরি চোরাই যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মূল্য ১২ লক্ষ চার হাজার ৮০০ টাকা। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল কথাবার্তার ও ছবির স্ক্রীনশট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সোনাইমুড়ী থানায় ভুক্তভোগী প্রবাসী লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.