ভোটে নয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ষড়যন্ত্রে হেরেছি: নৌকা প্রার্থী

ভোটে নয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ষড়যন্ত্রে হেরেছি: নৌকা প্রার্থী

রাজনীতি: ভোটের রাজনীতিতে নয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহাবুবুর রহমান তালুকদারের ষড়যন্ত্রে নৌকার পরাজয় হয়েছে।

শুধু আমি নই, বিগত দিনে অনুষ্ঠিত একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ র্নিবাচনে নৌকার পরাজয় হয়েছে তার নগ্ন হস্তক্ষেপে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়াও

তিনি বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। দুর্নীতি দায়ে ২০১৮ সালের জাতীয় র্নিবাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত মাহাবুব নিজ এলাকায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ ও

পরোক্ষভাবে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। বর্তমান এমপি মুহিবের সুনাম নষ্ট করতে গিয়ে তিনি দলের ক্ষতি করছেন। যার খেসারত দিতে হচ্ছে তৃণমূলকে।

সদ্য অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ র্নিবাচনে নৌকার প্রতীক নিয়ে হেরে যাওয়া মো. মোদাচ্ছের হাওলাদার এমন অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় কলাপাড়া ৪ আসনের

সাবেক সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহাবুবুর রহমান তালুকদারের নোংরা খেলা থামাতে প্রধানমন্ত্রী ও দলের হাই কমান্ডে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

একই অভিযোগ করে বর্তমান সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত শাহারিয়ার সবুজকে প্রার্থী বানিয়েছেন মাহাবুব তালুকদার। এছাড়া নৌকার বিরুদ্ধে অংশ নেওয়া বাকি প্রার্থীরাও মাহাবুবের ইন্ধনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের অর্থের যোগানসহ নানা সহায়তা দিয়ে নৌকাকে পরাজিতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন সাবেক এই এমপি।
যে কারণে নৌকার ভোট ৫টি ভাগে বিভক্ত হয়ে হাত পাখার বিজয় হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মাহাবুব আমাকে হেনস্তা করতে গিয়ে দল ও দলের লোকজনকে হেনস্তা করছে। ইদানিং নানাভাবে সন্ত্রাসকেও উস্কানি দিচ্ছে। তার উস্কানিতে উপজেলার সেই সন্ত্রাসী চিত্র ফুঠে উঠছে।

মোদাচ্ছের হাওলাদার বলেন, কলাপাড়া ৪ আসনের এমপি মহিব্বুর রহমানের ইমেজ নষ্ট করতে সাবেক এমপি মাহাবুবুর রহমান মাঠ পর্যায়ে সংগঠনবিরোধী কাজ করছেন। সাবেক এমপি সঙ্গে জোট বেঁধেছে তার ছোটভাই অবসর প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান। দুর্নীতির দায়ে মনোনয়ন বঞ্চিত এই নেতা অস্তিত্ব টেকাতে আত্মঘাতী কাজে লিপ্ত হয়েছেন। নৌকার প্রার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীকে অর্থের যোগান দিচ্ছেন। যার ধারাবাহিকতায় কলাপাড়া উপজেলার ৯নং ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার পরাজয় হয়েছে। এর জন্য সাবেক এমপি দায়ী।

শুধু তাই নয়, নির্বাচনে দায়িত্বরত প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের জেল-জরিমানা করে ভোটারদের মাঝে ভয়-ভীতি ঢুকিয়ে নৌকার ভোট নষ্ট করেছেন। এছাড়া নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মিছিল শেষ করে ধুলাসার ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জিল্লুর রহমান কিশোর ইউনিয়ন পার্টি অফিসে অবস্থান করায় উপজেলা প্রশাসনকে প্রভাবিত করে জরিমানা করিয়েছেন সাবেক এই এমপি। যা ওপেন সিক্রেট।

মোদাচ্ছের হাওলাদার আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তে নৌকার প্রতীক পেলে বর্তমান এমপি মহোদয় দলীয় লোকজন নিয়ে নির্বাচনি এলাকায় বৈঠক করে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করেন। কিন্তু সাবেক এমপি একটি মহলকে আস্কারা এবং অর্থের যোগান দিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে একাধিক প্রার্থীকে র্নিবাচনে অংশ নিতে কাজ করেছেন। সাবেক এমপির ক্ষমতা আমলে সন্ত্রাসীরা পুনরায় মাথাচড়া দিচ্ছে। সাবেক এমপির আমলের প্রকাশিত গণমাধ্যমগুলো অনুসরণ করলে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের চিত্র দেখা যাবে।

এছাড়া তিনি টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ র্নিবাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী মাইম্যান সুজন মোল্লার পক্ষে কাজ করে নৌকাকে বিজিত করেছেন। একইভাবে চাকামাইয়া ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী মজিবর ফকিরের পক্ষে কাজ নৌকাকে হারিয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম বলেন, নির্বাচনে অন্য এলাকায় দলীয় প্রতীকের পক্ষে সাবেক এমপি কাজ করলেও এখানে করেননি। উপজেলা আওয়ামীগের সভাপতি থাকা সত্ত্বেও ধুলাসার ইউনিয়নে নৌকার তিনি প্রচারণা করেনি। এছাড়া বিগত নির্বাচনগুলোতে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই আলোচ্য বিষয়গুলো একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সর্বোপরি দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মোতালেব তালুকদার বলেন, নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহারিয়ার সবুজের নির্বাচনি মাঠ টিকিয়ে রাখার মূল উৎস ছিল সাবেক এমপি মাহাবুবুর রহমান। দলের স্বার্থে নয়, নিজের স্বার্থে তার মাইম্যানগুলোকে আস্কারা দিয়ে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। যে কারণে নৌকার ভোট বিভক্ত হয়ে হাত পাখা জিতেছে।

অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ বলছে, সাবেক এমপি ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহাবুবুর রহমান তালুকদার ও বতর্মান সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই হলেও রাজনীতির মাঠে তারা প্রতিপক্ষ। দুর্নীতি দায়ে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে ছিটকে পরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এই সাবেক এমপি । র্দীঘদিন নিজেকে গুঠিয়ে রাখলে কিছুদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা কর্মকাণ্ডের পোষ্ট দিচ্ছেন। পাশাপাশি নিজ এলাকায় অস্তিত্ব এবং স্বক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নিজেকে বিভিন্নভাবে জাহির করছেন।

এ প্রসঙ্গে সাবেক এমপি মাহাবুবুর রহমান বলেন, র্দীঘ ৪০ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক পদে আছি। যাকে নৌকা দিয়েছে, আমি তাকে চিনি না। আর হাত পাখা বিজয়ী হয়েছে প্রতীকে নয়, ব্যক্তি ইমেজে। যে বিষয়ে মোদাচ্ছের অভিযোগ করছে তা বানোয়াট। আসলে এ রকম দুঃসাহস ওর নাই।

গত ১৫ জুন কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ও লতাচাপলি ইউনিয়নে নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোদাচ্ছের হাওলাদারকে বিপুল ভোটে হারিয়ে হাত পাখার প্রার্থীর আব্দুর রহিম বিজয়ী হলে এমন অভিযোগ ওঠে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.