র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশের বিস্ময়ে বিস্মিত যুক্তরাষ্ট্রও

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশের বিস্ময়ে বিস্মিত যুক্তরাষ্ট্রও

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বাংলাদেশের বিস্মিত হওয়া দেখে যুক্তরাষ্ট্রও অনেকটা

বিস্মিত বলে জানিয়েছেন দেশটির ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি বলেন, অনেক বার শুনেছি বাংলাদেশ এ ঘটনায় কত বিস্মিত হয়েছে। তাদের বিস্ময় দেখে আমরাও প্রায় বিস্মিত।

শুক্রবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় মার্কিন দূতাবাসের নতুন সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান অ্যামটকের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থাপক দূতাবাসের মুখপাত্র কার্লা থমাসের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পিটার হাস।

অনুষ্ঠানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নির্বাচন, বাণিজ্য, দুই দেশের মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। মানুষ র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিতে

মনোযোগ দিয়ে চলমান অন্যান্য সহযোগিতার বিষয়গুলো ভুলে যাচ্ছে মন্তব্য করে পিটার হাস বলেন, আইন প্রয়োগ, সন্ত্রাসবাদ দমন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা রয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগ,

আইনজীবী ও পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। ভবিষ্যতে এসব প্রশিক্ষণ ও অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ব্যাপারে আমরা খুবই আগ্রহী। র‍্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর র‍্যবের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর থেকে অনেকবার শুনেছি

বাংলাদেশ এতে কত অবাক হয়েছে। তাদের এই বিস্ময় দেখে আমরাও প্রায় বিস্মিত। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ থাকায় ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবকে প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ করেছিল। এছাড়া বেশ কয়েক বছর ধরেই মানবাধিকার প্রতিবেদনে এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞাটা বিস্ময় হিসেবে এলেও আমাদের উদ্বেগ নিয়ে বিস্ময় থাকার কথা নয়।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিটার হাস বলেন, বিষয়টি এমন হতে হবে তা আমি মনে করি না। বহু বিস্তৃত ক্ষেত্রে আমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করি। এটি সেগুলোর মধ্যে একটি। র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার ইস্যুসহ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যকার অন্যান্য দ্বন্দ্বের বিষয়ে একসঙ্গে বসা ও কথা বলা চালিয়ে যাওয়া দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেখতে চান জানিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দল বা প্ল্যাটফর্ম বা কোনো কিছুর পক্ষ নয়। কারণ এখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভোট নেই। অবাধ, প্রতিযোগিতামূলক, সহিংসতাহীন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরবর্তী নেতাদের বেছে নিতে পারছে- এ জিনিসটিই দেখতে চাই। জিএসপি সুবিধা পেতে যা করণীয় বাংলাদেশ তা করেনি মন্তবয করে তিনি বলেন, শ্রমিক, শ্রম অধিকার, শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যবস্থায় নিয়েছে, এমনটা যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চায়। কিন্তু দুভার্গ্যজনকভাবে বাংলাদেশ এখনও সেসব বাস্তবায়ন করেনি। অথচ তারা জিএসপির বাধা তুলে নিতে বলছে বারবার।


Leave a Reply

Your email address will not be published.