একজন ডিভোর্সি নারীর জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শুনলে চমকে উঠবেন আপনিও- বিস্তারিত

একজন ডিভোর্সি নারীর জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শুনলে চমকে উঠবেন আপনিও- বিস্তারিত

একজন ডিভোর্সির জীবনের গল্প, ১ম পর্ব, ২০০৪ সাল—- তখন ক্লাস সেভেন এ পড়ি। ভালো ছাত্রী ছিলাম,ইচ্ছা ছিল ব্যাংকার হবো।

ঢাকা শহরে বড় হয়েছি। আমার হোম টাউন ঢাকা – ১ এ। আমরা দুই বোন আর বাবা মা ছোট সংসার। আব্বু সচিবালয় এ জব করেন ড্রাইভার পোস্ট এ।

আমার পুরো পরিবার এর সবচেয়ে আদরের মেয়ে ছিলাম আমি। হাত দিয়ে ভাত খাইনি,সবাই খাওয়ায় দিত। আমার ছোট মামা আর ছোট খালামনির চোখের মণি ছিলাম আমি,

মামা বিদেশে থাকত। দেশে এসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন জুন মাসে ছোট মামার বিয়ে ঠিক হল। সবাই অনেক খুশি হয়ে নানু বাড়ি গেলাম। মামার বিয়েতে অনেক আনন্দ করলাম।

কিন্তু ওটাই যে আমার জিবনের সবশেষে আনন্দ ছিল বুঝিনি। মামার বিয়ের দিন মামার ই ছোট মামা শ্বশুর আমাকে দেখেছিল উনি আমার ১০ বছর সিনিয়র আমাকে দেখে উনি

আমার প্রেমে পড়ে যায় তারপর মামার বিয়ের কিছুদিন পরেই মামার কাছে আমার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেয়। উনি দেখতে সুন্দর শিক্ষিত ভাল জব করে, সবকিছু দেখে মামা রাজি হয়ে গেল।আব্বু আম্মু কে বললো। আব্বু আম্মু ও মামাকে বিলিভ করে রাজি হল, কারন মামা আমাকে এতটাই আদর করত যে আমার ক্ষতি চাওয়ার প্রশ্ন ই আসেনা। আমার কাকা রাজি হল না,বললো যে মেয়ে এখন ও দুই টাকা চায় পাচ টাকা চায়না যে এখন সেই বাচ্চা কালের মত বিহেভ করে তাকে বিয়ে কিভাবে দিতে চান? কিন্তূ আমার মামা বললো এই ছেলে ওকে পড়াশোনা ও করাবে কোন ভেজাল নাই ঢাকাতে থাকবে একা। আর আমি খোজ পাব সবকিছুর। সেহেতু আপনের মধ্যেই অন্য কোথাও দিলে কই না কই দূরে না কাছে দেখতে ও পারবনা ওরে দূরে বিয়ে দিলে আমরা কিভাবে থাকব।।তারপর আর কি আমার বিয়ে হয়ে গেল।

বিয়ের পরে আমাকে যেদিন নিয়ে গেল আমি গিয়ে ঘুমায় গেলাম বাসর রাত কি বুঝতাম ই না। কিন্তূ আমার হাসবেন্ড এটা বুঝলনা আমি কতটা চাইল্ডিস।সে আমাকে জোর করতে থাকে আর আমি ভয়ে কাঁদতাম যাই হোক এক পর্যায়ে মানিয়ে নিলাম।বিয়ের প্রথম মাসেই আমি কন্সিভ করে ফেললাম কারন আমি কিছু বুঝতাম ই না আর আমার হাসবেন্ড মনে মনে এটাই চেয়েছিল যে বেবি নিলে আমি আর পড়াশোনা করতে পারবনা কারন হল সে ssc ফেল। কিন্তু বিয়ের সময় অনার্স পাস বলছিল। আমি আবার এটা জেনে গেলাম কিন্তু কিছু বলিনি কেন জানিনা।যাই হোক ওইটুকু বয়সে বাচ্চা হউয়া ভাল নাকি মন্দ বুঝার কারনে জিবনে শুধু পদে পদে ঠোকর ই খাচ্ছিলাম।একদিন আমার খুব খারাপ লাগছিল তো আমার হাসবেন্ড বলতে ছিল যে খাবার বেড়ে দাও।আমি বলছি আমি বসে থাকতে পারছিনা কষ্ট হচ্ছে সে রাগে প্লেট আছাড় দিয়ে ভেঙে ফে্লল আমি ভয়ে ছাদে গিয়ে একলা বসে আছি। তখন সে ছাদে গিয়ে দেখে আমি আম্মুএ সাথে ফোনে কথা বলে কাদতেসি।তখন আমাকে থাপ্পড় দেয় আমাকে টেনে বাসায় নিয়ে আসে।এই শুরু তারপর থেকে কথায় কথায় গায়ে হাত তুলতো। আবার যা খেতে চেতাম এনে দিত ডাক্তার এর কাছে নিয়মিত নিত। আমার আম্মু আমাকে একটা কাজের মেয়ে দিয়ে দিছিল সে সব কাজ করতো। কারণ আমি রান্না ই করতে পারতাম। আগে বুঝিনি এখন বুঝি আমার হাসবেন্ড বউ চেয়েছিল বাচ্চা বউ বাট বউ এর মেন্টালিটি চেয়েছিল একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের মত।

তারপর আর কি।আমার বাচ্চাটা দুনিয়াতে আসলো। আমি মা হলাম।আল্লাহ এর রহমতে আমি সুস্থ ছিলাম।সিজার এ হলো বেবি।নরমাল না,কারন আমি ছোট ছিলাম বয়সে। বাচ্চা হউয়ার পর শুরু হল আরও অত্যাচার বাচ্চা পালতে আমি ক্লান্ত আর সে আমাকে মেরে ক্লান্ত।মারার কারন বাচ্চা কাঁদলে তার ঘুমের ডিস্টার্ব হয়।বাচ্চা ঘর নোংরা কেন করে আমি তাকে বুঝাতেই পারিনা যে সেটা স্বাভাবিক।আর আমার উপর শারিরিক জোর তো করে যেত।ফিজিক্যাল রিলেশন এ যে দুটো মানুষ এর ইকুয়াল কন্ট্রিবিউশন লাগে আমার মনে হয়না সে জানে। এভাবেই চলতে থাকে সে আমার উপর সব দিক দিয়ে অত্যাচার করতে থাকে।আমার আম্মু এগুলো দেখে আমার বেবি টা কে নিয়ে যার ওর বয়স তখন ৪ মাস। সে ও দেয় যাতে তার প্রবলেম না হয়। আমি অনেক কাঁদতাম বেবির জন্য। ২ মাস বাচ্চাটা ছিল আম্মুর কাছে। একটা রাত ও সে আমাকে আমার মা এর বাসায় থাকতে দেয়নি।
চলবে……..
ভালো সাড়া পেলে পরবর্তী পর্ব শিঘ্রই পোস্ট করব।


Leave a Reply

Your email address will not be published.