কুমিল্লায় ফল ঘোষণায় বিলম্বের ব্যাখ্যা দিলেন ইসি

কুমিল্লায় ফল ঘোষণায় বিলম্বের ব্যাখ্যা দিলেন ইসি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, নিবন্ধ এবং সোশাল মিডিয়ায় পরিবেশিত তথ্য ও সংবাদের বিষয় ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

পরিবেশিত সংবাদ নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তির উদ্রেক করতে পারে উল্লেখ করে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে ইসির যুগ্ম-সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ১৫ তারিখে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে বেসরকারি ফলাফল প্রকাশের শেষ পর্যায়ে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হঠাৎ করে উত্তেজনা,

স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ও হাতাহাতি হলে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত ফল প্রকাশে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।

কোনও কোনও পত্র-পত্রিকার নিবন্ধ এবং সোশাল মিডিয়ায় এই সময়কে এক বা দেড় ঘণ্টার বিলম্ব বলে রহস্য, অঘটন ইত্যাদির ইঙ্গিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি মোটেই তা ছিল না। চূড়ান্ত ফল প্রকাশে উল্লেখিত কারণে কম-বেশি ১৫/২০ মিনিট বিলম্ব হয়েছিল।

ব্যাখ্যায় বলা হয়- মাত্র ৩৪৩ ভোটে পরাজিত প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে জনৈক ব্যক্তি ফলাফল ঘোষণার চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি টেলিফোন কলে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে মর্মে বক্তব্য দিয়েছেন।

এতে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টির অপপ্রয়াস হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের শেষ পর্যায়ে ইভিএমে ধারণকৃত ফলাফল পাল্টে দেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১০৫টি কেন্দ্রের ফলাফল নির্দিষ্ট কেন্দ্রেই ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রভিত্তিক ইভিএম থেকে মুদ্রিত ফলাফল এবং প্রার্থীগণের এজেন্ট এবং প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ফলাফলের সকল কপি প্রার্থীদের এজেন্টকে সরবরাহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রিজাইডিং অফিসার নিজে রিটার্নিং অফিসারের নিকট এসে একটি কপি সরবরাহ করেন।

রিটার্নিং অফিসার একত্রে ফলাফল ঘোষণা করেন। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীদের ইভিএম থেকে মুদ্রিত সকল কেন্দ্রের ফলাফল এবং প্রার্থীর এজেন্ট এবং প্রিসাইডিং অফিসার এর স্বাক্ষরিত ফলাফলের কপি কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.ecs.gov.bd) আপলোড করা হয়েছে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন ও স্বচ্ছ করতে প্রথমবারের মত প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচনকে অধিকতর নিরপেক্ষ করার উদ্দেশে সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব না দিয়ে বাইরে থেকে

কর্মকর্তা এনে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের তথ্য ধারণ ও পরিবেশনের জন্য অবাধ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহিংসতার কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ভোটারদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মত ছিল। নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করে আন্তরিক ও গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করে সকলে কমিশনকে তাদের দায়িত্ব আরও দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে সহায়তা করবেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.