জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্কুলছাত্রীকে ধ’র্ষণের, ভিডিও ভাইরাল

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্কুলছাত্রীকে ধ’র্ষণের, ভিডিও ভাইরাল

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ধ’র্ষণের শিকার হয়েছে এক স্কুলছাত্রী (১৫)। এ সময় তাকে ধ’র্ষণের ভিডিও ধারণ করে অপর দুই বন্ধু।

ঘটনার তিন মাস পর গত কয়েক দিন আগে সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল করে দেয় তারা। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মেয়েটি গিয়ে থানায় মামলা করে।

ভেদরগঞ্জ থানার এসআই রাজীব কুমার জানান, গত ১৫ মার্চ এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী ভেদরগঞ্জ উপজেলার নিজ স্কুলে যায়। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে তার সহপাঠী অর্পণ দাস,

দুর্জয় দাস, মুবদি সরদার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে সাজনপুর বাজার থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে অর্পণ দাসের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে জন্মদিন অনুষ্ঠানের ফাঁকে ওই কিশোরীকে একটি রুমে নিয়ে যায়।

একপর্যায়ে দুর্জয় ও মুবদির সহযোগিতায় ওই মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধ’র্ষণ করে অর্পণ দাস। তাকে ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সহযোগিতাকারী দুই বন্ধু দুর্জয় ও মুবদি সরদার।

ঘটনার পর থেকেই ওই স্কুলছাত্রীকে আবারও কুপস্তাব দিতে থাকে দুর্জয় ও মুবদি। তবে ওই কিশোরী তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেই দিনের ধারণকৃত ভিডিও ক্লিপটি গত ১৫ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেয় তারা। এ ঘটনার পর থেকে কিশোরীর মেয়েটির স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

পরে ওই কিশোরী বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা করে। তবে মামলা হলেও এখনো আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় উল্টো মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ ওই কিশোরীর পরিবারের। আসামিরা হলো— ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের সাজনপুর দাসপাড়া গ্রামের অশিম দাসের ছেলে অর্পণ দাস (১৯), একই এলাকার কোমল দাসের ছেলে দুর্জয় দাস (১৯), দক্ষিণ মহিষার গ্রামের মোক্তার সরদারের ছেলে মুবদি সরদার (১৮)। তারা সবাই সাজনপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ১ ও ৩নং আসামিরা ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

ধ’র্ষণের শিকার ওই কিশোরী বলে, সহপাঠী হওয়ায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যেতে রাজি হই। কিন্তু তারা আমাকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধ’র্ষণ করে এবং সেই ভিডিও ধারণ করেছে। পরে আমাকে ওই ভিডিও দেখিয়ে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমি রাজি না হওয়ায় ওরা ওই ধারণকৃত ক্লিপটি ভাইরাল করে দিয়েছে। ওরা আমার জীবনটাকে নষ্ট করে দিছে। ওদের আমি বিচার চাই। আসামিরা অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন চাপের মধ্যে আছি। সামনে আমার এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবো কিনা জানি না। ভিডিও করার কথা অস্বীকার করে আসামি মুবদি সরদার বলে, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। ওরা করেছে শুনে আমি ওদের বকাবকি করেছি। এর বেশি কিছু আমি জানি না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভেদরগঞ্জ থানার এসআই রাজিব সূত্রধর বলেন, ধর্ষণ ও ওই ঘটনা ভাইরালের পর থানায় মামলা হয়েছে। আমাদের ওসির কাছে ভিডিওটি রয়েছে। ভেদরগঞ্জ থানার ওসি বাহালুল খান বাহার বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.