জেনারেটরে মোবাইল চার্জ করতে লাগে ৫০-৬০ টাকা

জেনারেটরে মোবাইল চার্জ করতে লাগে ৫০-৬০ টাকা

সুনামগঞ্জের ভাটির উপজেলা শাল্লায় বন্যার ভয়াবহতা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে উপজেলার লাখ লাখ মানুষ ৬ দিন ধরে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

উজানের ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার প্রায় ৯৭ ভাগ গ্রাম ডুবে গেছে।

অতীতের সকল বন্যার রেকর্ড অতিক্রম করেছে এবারের বন্যা। নেই বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্য দ্বিগুণ সহ অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েছে এই হাওরপাড়ের মানুষ। প্রয়োজনের তাগিদে মোবাইল ব্যবহার করতে লাইন দিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে ৫০/৬০ টাকা দিয়ে

চার্জ করাচ্ছে অনেকেই। আবার অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ও মানুষের ভিড়ের কারণে মোবাইল চার্জ করতে পারছে না । এমন দৃশ্য আনন্দপুর বাজারে রবিবার সন্ধ্যায় দেখা যায়। একদিকে পানি বৃদ্ধি অন্যদিকে মুষলধারে বৃষ্টির ফলে মানুষ দিশেহারা। কৃষকের ধানের গোলা,

গোখাদ্য খড় সব কিছু এখন পানির ৩/৪ ফুট পানিতে নিমজ্জিত। আবার ক্ষতির মুখে পড়েছে মৎস্য চাষিরা। উপজেলার প্রায় ৬০/৭০টি পুকুরের মাছ বন্যায় ভেসে গেছে।বহু মুরগির খামার বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার। বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

উপজেলা আনন্দপুর গ্রামের বিকাশ চক্রবর্তী ফোনে জানালেন, শাল্লা সদর সহ প্রত্যেকটি গ্রাম বন্যার আক্রান্ত। উপজেলার কয়েক শত পরিবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। বহু মাছ চাষের পুকুর তলিয়েছে। হাটবাজার তলিয়ে যাওয়ার ফলে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, সব মিলিয়ে ভয়াবহ চিত্র। গবাদি পশু নিয়ে আরো বড় রকমের সমস্যায় রয়েছে বানভাসি মানুষ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তালেব জানালেন, শাল্লায় ছোট বড় মিলিয়ে ৭০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, ত্রানের জন্য ৩০ টন চাল ও ২ লাখ টাকা আছে তাঁর কাছে। এদিয়েই তিনি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রানের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আরো ত্রানের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান।


Leave a Reply

Your email address will not be published.