মারা গেলে খাটিয়ায় যেন দলীয় পতাকা থাকে, জেল থেকে যুবদল নেতার আকুতি

মারা গেলে খাটিয়ায় যেন দলীয় পতাকা থাকে, জেল থেকে যুবদল নেতার আকুতি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ কারাগার থেকে নেতাকর্মীদের বার্তা পাঠিয়েছেন।

তাতে তিনি মারা গেলে তার খাটিয়াটি দলের পতাকায় যেন ঢাকা থাকে, সেই আকুতি জানিয়েছেন৷ বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তার পাঠানো এ বার্তাকে খোলা চিঠি আকারে কাগজে লিখে

নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। ফলে ইতোমধ্যে এটি ভাইরাল হয়েছে। খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি৷ তার বড় ভাই এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদ থেকে সম্প্রতি বহিস্কৃত হন।

বার্তায় লেখা আছে, ‘আমি মারা গেলে আমার খাটিয়ার চাদুরটি হয় যেন, দলের পতাকা দিয়ে ডাকা। মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা জানান, দলকে ভালোবেসে দিনের পর দিন পরিবার সন্তানদের ফেলে দলের জন্য দূরে থেকেছেন।

দিনের পর দিন মিথ্যা মামলাগুলোতে জেল খেটেছেন, খাটছেন। আদালতে আদালতে জামিনের জন্য ঘুরেছেন, হাজিরা দিয়েছেন। মানুষের সেবায় ও দলের জন্য খোরশেদ একজন নিবেদিতপ্রাণ। তার জন্য আপনারা দোয়া করবেন। এটি পোস্ট করা শওকত খন্দকার নামে এক যুবদল নেতা জানান,

কাউন্সিলর খোরশেদের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের এ বার্তা দেন। নেতার দেয়া বার্তাই সবার কাছে পৌছে দিতে এটি পোস্ট করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুন) দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানী শেষে আদালত তাকের জামিন না মঞ্জুর কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট সাঈদা আক্তার শিউলি নামে এক নারী বাদী নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে ধর্ষণ মামলা করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত করে খোরশেদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর খোরশেদকে গ্রেপ্তার করতে আদালত ওয়ারেন্ট

ইস্যু করলে হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে নির্বাচনের দুই দিন আগে গত ১৪ জানুয়ারি সেই জামিন আদেশের মেয়াদ শেষ হলেও আত্মসমর্পণ করেননি খোরশেদ। বুধবার জামিনের জন্য আবার গেলে কারাগারে পাঠান আদালত।

আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু বলেন, কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে এক নারী মামলা করে। যে মামলার কোনো ভিত্তি নেই। ভিত্তিহীন একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে হাইকোর্ট থেকে আমরা ৪ সপ্তাহের জামিন লাভ করি। জামিনের মেয়াদ শেষে আত্মসমর্পন করলে শুনানী শেষে আদালত কারাগারে প্রেরণ করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.