হেফাজত আমীরের সঙ্গে ভাণ্ডারীর বৈঠক নিয়ে কৌতূহল

হেফাজত আমীরের সঙ্গে ভাণ্ডারীর বৈঠক নিয়ে কৌতূহল

হেফাজতের আমীর আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে দেখা করেছেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত এমপি সৈয়দ নজিবুল বশর ভাণ্ডারী।

রোববার দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, থানার ওসিসহ কয়েকজনকে নিয়ে হেফাজত আমীরের পরিচালিত বাবুনগর মাদ্রাসায় ঝটিকা সফরে আসেন ভাণ্ডারী।

এদিকে বাবুনগর মাদ্রাসায় আসাকে ভাণ্ডারীর নিছক হেফাজত আমীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকার বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে কৌতূহল। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ

মাঠে শানে রেসালাত সম্মেলনের আড়ালে হেফাজতের শোডাউনের দুই দিন পরেই আমীর মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে ভাণ্ডারীর এই দেখা করা নিয়ে স্বয়ং হেফাজত নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন।

গত ১৭ই জুন চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে শানে রেসালাত সম্মেলনের আয়োজন করে হেফাজত। এতে আটক আলেম-ওলামাদের মুক্তিসহ সরকারের কাছে ৪টি দাবি রাখেন সংগঠনের নেতারা। সম্মেলনে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে

১০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার পর অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়া সংগঠনটির এটাই সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এ ছাড়া ভারতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)- এর অবমাননার ইস্যুতে এখন মাঠে সরব সংগঠনটি। সব মিলিয়ে হঠাৎ বেশ তৎপর হয়ে ওঠেছে দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা দেশের সবচেয়ে বড় এই অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আর তাদের হঠাৎ ফুরফুরে মেজাজ নিয়েই চিন্তিত প্রশাসন।

যে কারণে মহাজোট সরকারের শরিক তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজ ভাণ্ডারী সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সমঝোতার বার্তা নিয়ে হেফাজত আমীর বাবুনগরীর কাছে গেছেন বলে গুঞ্জন ওঠেছে। হেফাজতের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ

নির্বাচনে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে ফটিকছড়ি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে তার জন্য প্রকাশ্যে কাজ করেন মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। সে সময় থেকে বাবুনগরীর সঙ্গে ভাণ্ডারীর একটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী কট্টর দরগাহ-খানকাবিরোধী হলেও ভালো জানতেন নজিবুল বশরকে।

কিন্তু বিএনপি সরকারের শেষের দিকে ভাণ্ডারী বিএনপি ছেড়ে আলাদা দল গঠন করলে তার সঙ্গে বাবুনগরীর সম্পর্ক অনেকটা ভাটা পড়ে। তবে গত দুই বছর আগে মাওলানা সলিমুল্লাহ নামে এক বিতর্কিত শিক্ষককে ফটিকছড়ির নাজিরহাট মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দিতে বাবুনগরীকে সহযোগিতা করেন এমপি ভাণ্ডারী। তখন থেকে তাদের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয়। আর এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে ভাণ্ডারী বাবুনগর মাদ্রাসায় এসেছেন।

মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর এক নিকট আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, আল্লামা শফী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চললেও বাবুনগরী হুজুর তা করেন না। তবে ভাণ্ডারীকে তিনি ভালো জানেন। যে কারণে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমপি সাহেব (ভাণ্ডারী) সরকারের সঙ্গে একটা মধ্যস্থতা করতে হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

তবে হেফাজতের সাবেক এক নেতা বলেন, ‘ভাণ্ডারী সরকারের হয়ে হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। তিনি নিজেকে মন্ত্রী বানাতে হুজুরকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করাতে এসেছেন। এর আগে তাদের সঙ্গে নাজিরহাট মাদ্রাসার মাওলানা সলিমুল্লাহর ভালো সম্পর্ক ছিল। তখন তিনি মাওলানা সলিমুল্লাহর মাধ্যমে আল্লামা শফীকে দিয়ে নিজের মন্ত্রিত্ব পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করাতে চেয়েছিলেন। কারণ আল্লামা শফীর ছেলে আনাস মাওলানা সলিমুল্লাহর খুবই ঘনিষ্ঠ।

যদিও সেটা না পেরে প্রশাসনকে দিয়ে নাজিরহাট মাদ্রাসা থেকেই মাওলানা সলিমুল্লাহকেই বের করতে কলকাঠি নেড়েছেন ভাণ্ডারী। তবে বাবুনগর মাদ্রাসার কারণ জানতে চাইলে নজিবুল ভাণ্ডারী সেখানে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আমার মহব্বতের মানুষ। উনি আমীর হওয়ার পর একবারও দেখা করার সুযোগ হয়নি। তাই উনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। অন্য কোনো কারণ নেই। ভাণ্ডারী বলেন, হুজুরকে আমি ওয়াদা দিয়েছি আলেম-ওলামাদের মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী

ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। তিনিও আমাকে বলেছেন, হেফাজত কখনো বিএনপি- জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না। চীন-পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না। এদিকে আমীর বাবুনগরীর সঙ্গে তরিকত নেতা নজিবুল বশর ভাণ্ডারীর সাক্ষাৎ নিয়ে জানতে চাইলে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি আমিও জানতাম না। একদিন পর জেনেছি। আর ভাণ্ডারী সাহেব স্থানীয় এমপি হিসেবে হয়তো হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতেই ভাণ্ডারী এসেছেন কিনা জানতে চাইলে মীর ইদ্রিস বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে হুজুর সরকারের উচ্চ মহলের কেউ আসলেই তাদের কাছে আলেম-ওলামাদের মুক্তি দাবি করেন। গতকালকেও নাকি ভাণ্ডারী সাহেবের কাছে এমন দাবি করেছেন। আর তিনিও (ভাণ্ডারী) আলেম-ওলামাদের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.