নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ৭৩ বছরে পদার্পণ করল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ৭৩ বছরে পদার্পণ করল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

গৌরব, ঐতিহ্যের ৭২ বছরের পথ পেরিয়ে ৭৩ বছরে পদার্পণ করল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দলটির শুরুটা ছিল ১৯৪৯

সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে। এরপর থেকে দলটি এখনও নিজের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। শুধু তাই নয়,

৭৩ বছরের মধ্যে ৪৩ বছরই দলটির হাল ধরে রেখেছেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০১ এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর আরেক দফা বিপর্যয় কাটিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে তিন-

চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় আওয়ামী লীগ। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুযারি এবং ২০১৮-এর ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছে দলটি।

১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

অবশেষে দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত ঠিক তখনই স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আন্তর্জাতিক

শক্তির সহায়তায় ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা দলটির হাল ধরেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এক নবতর সংগ্রামের পথে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় অনেক ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি ফিরে পায় ‘ভাত ও ভোটের অধিকার’।

বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় দলটি এ পর্যন্ত চার বার সরকার গঠন করে। বর্তমানে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে দলটি। সাত দশকের লড়াই-সংগ্রামের অভিযাত্রায় আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।

আওয়ামী লীগের অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর লক্ষে এগিয়ে চলছে। জনগণকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দেশবাসীকে ঐতিহাসিক ২৩ জুনে সীমিত পরিসরে যথাযথভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, মুক্তি, গণতন্ত্র ও প্রগতি প্রতিষ্ঠায় আত্মদানকারী সব শহীদ সন্তান এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মকবুল হোসেন, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম,

কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য বদর উদ্দীন আহমদ কামরান, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মৃত সবার আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করে পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বাদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের নীতি, আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সব বাঙালি হৃদয়ে দেশপ্রেমের বহ্নিশিখা প্রজ্জলিত করে সংকট জয়ের ঐক্যবদ্ধ সুরক্ষা প্রাচীর সৃষ্টির অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যা থাকছে: মঙ্গলবার (২৩ জুন) সূর্য উদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকেলে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ নিহত সবার, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদ, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মৃত্যুবরণকারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত সবার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত।


Leave a Reply

Your email address will not be published.