পদ্মা সেতুর জন্য ছাড়তে হয় মন্ত্রিত্ব, অশেষে মুখ খুললেন আবুল হোসেন

পদ্মা সেতুর জন্য ছাড়তে হয় মন্ত্রিত্ব, অশেষে মুখ খুললেন আবুল হোসেন

পদ্মা সেতুর জন্য ছাড়তে হয় মন্ত্রিত্ব, এরপর অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান।আজও তাকে সেই সময়ে দুঃসহ স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায়।

বলা হচ্ছে সেই সময়ের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের কথা। সেতু উদ্বোধনের দুদিন আগে তার সঙ্গে কথা হয় সময় সংবাদের।

তিনি জানান, সে সময় কয়েকটি গণমাধ্যম এবং কতিপয় সুশীলের ভূমিকার নেপথ্যে ছিল আওয়ামী লীগবিরোধী ষড়যন্ত্র। বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের

অপমানের প্রতিশোধ, পদ্মা সেতু ষড়যন্ত্রের জবাব। পদ্মা সেতু প্রকৌশলগত এক বিস্ময়ের প্রতীক। কল্পিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি

বাতিল করছিল বিশ্বব্যাংক। অন্যদের সঙ্গে কাঠগড়ায় সে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, দুদকে হাজিরা দিতে দিতে নাজেহাল। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন,

আবুল হোসেনকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, কোনো অস্বচ্ছতার সঙ্গে জড়িত নই। দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম তাকে জড়িয়ে একের পর এক দুর্নীতির খবর প্রচার করতে থাকে। সেই স্রোতে গা ভাসান সুশীল সমাজের কয়েকজন। মামলার আসামি না হলেও বিশ্বব্যাংকের চাপে আবুল হোসেনকে গ্রেফতারে দুদকে তদবির করেন সরকারের একজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা। পদ্মা সেতু চালুর দুদিন আগে সময় সংবাদের সঙ্গে কথা বলেন আবুল হোসেন।তিনি বলেন, অর্থছাড় না হওয়ার পরও দুর্নীতির অভিযোগ তোলার নেপথ্যে ছিল সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র। আবুল হোসেন বলেন, ‘যখন পদ্মা সেতু নির্মাণের কোনো ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি, কোনো অর্থও ছাড় হয়নি এই পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের একটি কুটকৌশল মাত্র। অনেকের রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল শেখ হাসিনা সরকারের মেয়াদকালের মধ্যে যাতে পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হয়।’

আবুল হোসেন আরও জানান, প্রকল্পের স্বার্থেই দায়িত্ব নেয়ার ১০ মাসের মাথায় মন্ত্রিত্ব থেকে নিজেই সরে যান আসি।তিনি বলেন, পত্রিকার অসত্য রিপোর্টের ভিত্তিতে অনেক সম্মানিত বুদ্ধিজীবীরা আমার সম্পর্কে নীতিবাচক কথা বলেছেন, পদ্মা সেতুর স্বার্থে। আমি নিজেই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করি। কোনো অন্যায় ও অসত্যের সঙ্গে আপস করিনি। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র না হলেও ৯ বছর আগেই শেষ হতো এ সেতুর কাজ।আবুল হোসেন বলেন, যেভাবে কাজ করেছিলাম সেই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সবার জন্য উন্মুক্ত করা যেত। পদ্মা সেতু আমাদের অপমানের প্রতিশোধ, পদ্মা সেতু ষড়যন্ত্রের জবাব। পদ্মা সেতু প্রকৌশলগত এক বিস্ময়ের প্রতীক। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সৈয়দ আবুল হোসেন। পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে ছাড়তে হয় মন্ত্রিত্ব ও দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদকের পদ। বর্তমানে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন একসময়ের প্রভাবশালী এ মন্ত্রী।


Leave a Reply

Your email address will not be published.