ভয়ঙ্কর করোনায় ঈদের পরের দিনই রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু, বেড়েই চলেছে লাশের মিছিল!

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃ’ত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮৫ জনের।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঈদের পরেরদিন ফের দেশে করোনায় মৃত্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৮৫ জনে। এ সময় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৭ জন।

এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ লাখ ৪০ হাজার ২০০ জনে। শনাক্তের হার ৩২.১৯। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

খুলনা যেন করোনার মৃত্যুপুরী, একদিনে ৪০ জনের প্রাণহানি: করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে আরও ৪০ জন মারা গেছেন। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২১৩ জনের। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকালে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডাঃ ফেরদৌসী আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মারা যাওয়া ৪০ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে কুষ্টিয়াতে।এছাড়া খুলনায় ১০ জন, মেহেরপুর ৮ জন, মাগুরায় ৪ জন, যশোর ও ঝিনাইদহ ৩ জন করে মারা গেছেন। গেল বছরের ১৯ মার্চ খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৮৫ হাজার ১৭৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

মারা গেছেন ২ হাজার ৬৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৮ হাজার ১৩৫ জন।রামেকে করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় ২২ জনের মৃত্যু: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁরা মারা যান। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, মৃত ২২ জনের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি রাজশাহী। এ ছাড়া নাটোরের ছয়জন, পাবনার চারজন এবং নওগাঁর দুজন করে মারা গেছেন। এরমধ্যে রাজশাহীর চারজন, পাবনার দুজন এবং নাটোরের একজন করে মোট সাতজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য ১৫ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। মৃত ২২ জনের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও নয়জন নারী।

এদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন করে নারী ও পুরুষ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন করে নারী ও পুরুষ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুজন নারী; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ এবং ষাটোর্ধ্ব আটজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী ছিলেন।

হাসপাতালটিতে এ নিয়ে চলতি মাসে ৩৮৯ জনের মৃত্যু হলো। জুন মাসে মারা গেছেন ৪০৫ জন।হাসপাতালে করোনা ডেডিকেটেড শয্যা বাড়িয়ে ৫১৩টি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ভর্তি ছিলেন ৪৩৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন নয়জন। হাসপাতালে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২১০ জন।

উপসর্গ নিয়ে আছেন ১৬৬ জন। এ ছাড়া করোনা নেগেটিভ হলেও শারীরিক নানা জটিলতায় কোভিড ইউনিটে ভর্তি ছিলেন আরও ৫৮ জন রোগী।এরমধ্যে রাজশাহীর ২২৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৪ জন, নাটোরের ৭২ জন, নওগাঁর ৪২ জন, পাবনার ৫২ জন, কুষ্টিয়ার ১০ জন, ঝিনাইদহের দুজন,

চুয়াডাঙ্গার ও জয়পুরহাটের চারজন করে এবং সিরাজগঞ্জ ও বি-বাড়িয়ার একজন করে রোগী ভর্তি ছিলেন।রাজশাহীর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ঈদের দিন বুধবার জেলায় মোট ৭২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ২৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *