মৃ’ত ডাক্তারকেও বদলি করল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়!

কভিড-১৯ মোকাবিলা করতে এক প্রায় সাতমাস আগে করোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত চিকিৎসককে পদায়ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মৃ’ত ওই চিকিৎসকের নাম ডা. জীবেশ কুমার প্রামাণিক।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ডা. জীবেশ কুমারকে বগুড়ায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৫ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব জাকিয়া পারভীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে

কভিড-১৯ অতিমারি সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে ৪৩জন চিকিৎসককে বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ জেলা হাসপাতালে সংযুক্তিতে পদায়ন করা হয়। এই প্রজ্ঞাপনের ১৫ নম্বর ক্রমিকে ডা. জীবেশ কুমার প্রমাণিকের নাম রয়েছে।

জানা গেছে, ডা. জীবেশ কুমার প্রমাণিক বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় করোনায় আ’ক্রান্ত হন। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান।

এর আগে, করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত বগুড়া মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার জীবেশ কুমারকে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টারযোগে বগুড়া হতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ডাক্তার জীবেশ কুমার বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক জানান, ডা. জীবেশ কুমার মা’রা যাওয়ার ঘটনাটি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সকলেই জানেন। তারপরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন তার নাম এলো।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন আমরা হাতে পেয়েছি। সেখানে একজন মৃ’ত চিকিৎসকের নাম রয়েছে। আমরা বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। ডা. জীবেশ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ২২তম বিসিএস ক্যাডারের (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা ছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *