উপেক্ষিত লকডাউন, সবার মুখে এখন একটাই কথা

প্রতিদিনের মতো জেল-জরিমানা হলেও নগরবাসীর মধ্যে দেখা যায়নি স্বাস্থ্য সচেতনতা। মা’মলা ও আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আ’টকও করা হয়েছে অনেককে।

বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) সকালে যাত্রাবাড়ী সড়কে রিকশা ও গাড়ি দেখে বোঝার উপায় নেই যে, চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। রয়েছে রিকশা-ভ্যান আর সড়কের মোড়ে মানুষের জটলা।

বেশির ভাগই মানুষের মুখে একটাই কথা, বলছেন অফিস খোলা। মাত্র সাত দিন না যেতেই কঠোর বিধিনিষেধ অনেকটাই উপেক্ষিত সাধারণ মানুষের মধ্যে, নেই সচেতনতা। রয়েছে তাদের মধ্যে চরম আকারে অসচেতনতার ছাপ।

সড়কজুড়ে ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে। কোথাও কোথাও যানজটও দেখা গেছে। শিল্পকারখানা, ব্যাংক, হাসপাতাল অথবা জরুরি সেবার কথাই বলছেন সবাই। তবে নগরজুড়েই পুলিশের পাশাপাশি

র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর তল্লাশিচৌকি চলছে। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে করা হয়েছে জেল-জরিমানাও। ঢাকা জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন,

কয়েকটি আইনের ধারায় বিচার করা হচ্ছে। ২৬৯ ধারায় করা হচ্ছে। এ ধারায় নির্দিষ্ট কোনো জরিমানা নেই। এটা বিচারকের ওপর নির্ভর করব।রজধানীর সড়কে টহলরত সেনাবাহিনী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন কামরুল কামাল তিতাস বলেন,

যারা যৌক্তিক কারণে ঘর থেকে বের হচ্ছেন আমরা অবশ্যই তাদের যেতে দিচ্ছি। আর যারা অযথা বের হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে বিচারকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মিরপুর জোনের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. জিন্নাত আলী বলেন,

ব্যক্তিগত গাড়ি এক পাশে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজন জেনে ছাড়া হচ্ছে। শুধু জরিমানা কিংবা আইন প্রয়োগই নয় জনসচেতনতা বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও দেখা গেছে রাজধানীতে।

প্রসঙ্গত: আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে সোমবার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। এর আগে ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকারের পক্ষ থেকে এবার বিধিনিষেধ ‘কঠোর’ই করার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করার কথা বলে পুলিশও। বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীও। লকডাউন নিয়ে গত ৩০ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *